আল্লাহর ৯৯ নাম
"আল্লাহর ৯৯ নাম" বা "আসমাউল হুসনা" হলো মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম, যা তাঁর মহিমা ও সৌন্দর্যের প্রকাশ। এই নামগুলো প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা আল্লাহর প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে গভীর করে তোলে।
এই ব্লগ পোস্টে, আমরা আল্লাহর ৯৯টি নামের অর্থ, তাৎপর্য এবং আমাদের জীবনে তাদের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব। আল্লাহর এই পবিত্র নামগুলো পাঠ ও ধ্যান করার মাধ্যমে আমরা কীভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারি, তা জানব।
আল্লাহর ৯৯ নাম
"আল্লাহর ৯৯ নাম" শুধু কিছু শব্দ নয়, বরং এগুলো আল্লাহর গুণাবলীর প্রতিফলন, যা আমাদের জীবনকে আলোকিত করতে পারে। এই নামগুলো পাঠ ও ধ্যান করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি এবং আমাদের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে পারি।
০১. আল্লাহ (الله) অর্থ— আল্লাহ। "আল্লাহ" (الله) হল একমাত্র সত্য ঈশ্বর, যিনি সৃষ্টিকর্তা এবং সর্বশক্তিমান। তাঁর দয়া, ক্ষমা ও সুবিচার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে।
০২. আর রাহমান (الرحمن) অর্থ— পরম দয়ালু। এটি আল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যা তাঁর অসীম দয়া এবং সবার প্রতি শরণাপন্ন হওয়া ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। আল্লাহ সৃষ্টির সকল জীবের প্রতি অপরিসীম দয়া প্রদর্শন করেন।
০৩. আর-রাহীম (الرحيم) অর্থ— অতিশয় মেহেরবান। এটি আল্লাহর এক বিশেষ গুণ, যা তাঁর স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন দয়ার প্রকাশ করে, বিশেষত ঈমানদারদের প্রতি, দুনিয়া ও আখিরাতে।
০৪. আল-মালিক (الملك) অর্থ— সর্বকর্তৃত্বময়। তিনি সমস্ত সৃষ্টির একমাত্র মালিক ও শাসক, যাঁর অধীনেই সকল ক্ষমতা, সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও চূড়ান্ত বিধান রয়েছে।
০৫. আল-কুদ্দুস (القدوس) অর্থ— নিষ্কলুষ। তিনি সকল দোষ, অপূর্ণতা ও ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র, মহান এবং শুদ্ধ সত্তা, যাঁর পবিত্রতা সব সৃষ্টির ঊর্ধ্বে ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের।
০৬. আস-সালাম (السلام) অর্থ— শান্তি-দানকারী। তিনি সকল নিরাপত্তা ও কল্যাণের উৎস, যিনি তাঁর সৃষ্টিকে শান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদান করেন এবং সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত।
০৭. আল-মু'মিন (المؤمن) অর্থ— ঈমান দানকারী। তিনি নিরাপত্তা ও শান্তি প্রদান করেন, সত্যের সাক্ষ্য দেন এবং বিশ্বাসীদের হৃদয়ে ঈমান ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেন।
০৮. আল-মুহাইমিন (المهيمن) অর্থ— রক্ষণাবেক্ষণকারী। তিনি সমস্ত সৃষ্টির উপর পর্যবেক্ষণকারী, রক্ষাকারী ও নিয়ন্ত্রক, যিনি ন্যায়ের সাথে সবকিছুর দেখভাল করেন।
০৯. আল-আ'জীজ (العزيز) অর্থ— পরাক্রমশালী। তিনি অপরাজেয়, অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সর্বশক্তিমান, যাঁর শক্তি ও মর্যাদার ওপর কেউ আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না।
১০. আল-জাব্বার (الجبار) অর্থ— দুর্নিবার। তিনি যিনি সমস্ত কিছু শাসন করেন এবং তাঁর ইচ্ছা ও পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কোনো কিছুই দাঁড়াতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টিকে দুর্বলতা থেকে শক্তি ও পূর্ণতা দেন।
১১. আল-মুতাকাব্বিইর (المتكبر) অর্থ— শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তিনি একমাত্র মহিমান্বিত, যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরবের সমকক্ষ কেউ নেই, এবং যিনি সকল অহংকার ও দুর্নীতিমুক্ত।
১২. আল-খালিক্ব (الخالق) অর্থ— সৃষ্টিকর্তা। তিনি বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, যিনি পরিপূর্ণ জ্ঞান ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তাঁর সৃষ্টিতে কোনো ত্রুটি নেই, এবং তিনি প্রতিনিয়ত নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁর অসীম ক্ষমতার প্রকাশ ঘটান।
১৩. আল-বারী (البارئ) অর্থ— সঠিকভাবে সৃষ্টিকারী। তিনি প্রতিটি সৃষ্টি নিখুঁতভাবে গঠন করেন, নির্ভুল আকৃতি দেন এবং সৃষ্টিকে নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত করেন, যাতে কোনো ত্রুটি থাকে না।
১৪. আল-মুছউইর (المصور) অর্থ— আকৃতি-দানকারী। তিনি প্রত্যেক সৃষ্টিকে স্বতন্ত্র ও নিখুঁত আকৃতি দান করেন, তাদের সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য নির্ধারণ করেন এবং সর্বোত্তম রূপে গঠন করেন।
১৫. আল-গফ্ফার (الغفار) অর্থ— পরম ক্ষমাশীল। তিনি বারবার ক্ষমা করেন, মানুষের পাপ আড়াল করেন এবং অনুতপ্ত বান্দাদের প্রতি অসীম দয়া ও করুণা প্রদর্শন করেন।
১৬. আল-ক্বাহার (القهار) অর্থ— কঠোর। তিনি সকল শক্তির মালিক, যিনি দুনিয়া ও আখিরাতে অন্যায়কারীদের ওপর তাঁর শক্তি প্রয়োগ করেন এবং সমস্ত সৃষ্টি তাঁর আদেশের অধীন।
১৭. আল-ওয়াহ্হাব (الوهاب) অর্থ— সবকিছু দানকারী। তিনি বিনা শর্তে, অপরিসীম দয়া ও ভালোবাসার সাথে সৃষ্টি জগতকে জীবিকা, জ্ঞান, ক্ষমা ও নানা নিয়ামত দান করেন।
১৮. আর-রজ্জাক্ব (الرزاق) অর্থ— রিযিকদাতা। তিনি প্রতিটি সৃষ্টির জন্য জীবিকা নির্ধারণ করেন, প্রয়োজন অনুযায়ী রিযিক দান করেন এবং অগণিত উপায়ে জীবনের ব্যবস্থা করেন।
১৯. আল ফাত্তাহ (الفتاح) অর্থ— বিজয়দানকারী। তিনি একমাত্র শাসক, যিনি সঠিক সময়ে এবং যেভাবে ইচ্ছা, তাঁর বান্দাদের জন্য সাফল্য ও বিজয় প্রদান করেন।
২০. আল-আ'লীম (العليم) অর্থ— সর্বজ্ঞ। তিনি সবকিছু জানেন, তাঁর জ্ঞান অনন্ত ও অসীম, যা পৃথিবী ও আকাশের সমস্ত ঘটনা ও গোপন বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
২১. আল-ক্ববিদ্ব (القابض) অর্থ— নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি যিনি জীবনের প্রতিটি দিক নিয়ন্ত্রণ করেন, জীবিকা সংকুচিত বা বিস্তৃত করতে পারেন এবং যাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সবকিছু ঘটে।
২২. আল-বাসিত (الباسط) অর্থ— প্রশস্তকারী। তিনি যিনি জীবনের পথ, রিজিক এবং দয়াকে বিস্তৃত করেন, বান্দাদের জন্য সুবিধা, সমৃদ্ধি ও শান্তি প্রদান করেন।
২৩. আল-খফিদ্বু (الخافض) অর্থ— অবনতকারী। তিনি যিনি কাউকে সম্মান বা মর্যাদা থেকে অবনতি করেন, অথবা যাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী গৌরব এবং মর্যাদা কমিয়ে দেন।
২৪. আর-রফীই (الرافع) অর্থ— উন্নতকারী। তিনি যিনি কাউকে সম্মান, মর্যাদা ও অবস্থানে উন্নীত করেন, তাদের জীবনকে উজ্জ্বল ও সাফল্যমণ্ডিত করেন এবং যারা তাঁর ইচ্ছায় উন্নতি লাভ করেন।
২৫. আল-মুই'জ্ব (المعز) অর্থ— সম্মান-দানকারী। তিনি যিনি কাউকে মর্যাদা, সম্মান ও উচ্চতা প্রদান করেন, এবং যাদের ইচ্ছায় মানুষ সম্মানিত, শক্তিশালী এবং গৌরবমণ্ডিত হয়, যেন তাঁর আদেশ ছাড়া কেউ সম্মান লাভ করতে পারে না।
২৬. আল-মুদ্বি'ল্লু (المذل) অর্থ— (অবিশ্বাসীদের) বেইজ্জতকারী। তিনি যিনি অবিশ্বাসীদের অবমাননা করেন, তাদের সম্মান ও মর্যাদা হরণ করেন, এবং তাদের পরাজয় ও লজ্জা প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের সম্মানহীন করেন।
২৭. আস্-সামি (السميع) অর্থ— সর্বশ্রোতা। তিনি যিনি সকল শব্দ, কথাবার্তা, গোপন সংকল্প এবং অন্তরের গোপন চাহিদা শোনেন। তাঁর শ্রবণ অসীম এবং কোনো শব্দ বা আওয়াজ তাঁর শোনার বাইরে নয়, তিনি সবকিছু জানেন ও শুনতে সক্ষম।
২৮. আল-বাছীর (البصير) অর্থ— সর্ববিষয়-দর্শনকারী। তিনি যিনি সকল সৃষ্টির অন্তর্নিহিত প্রকৃতি, ঘটমান ঘটনা এবং গোপন বিষয়গুলো পুরোপুরি দেখতে পারেন, তাঁর দৃষ্টি সকল সীমা অতিক্রম করে।
২৯. আল-হা'কাম (الحكم) অর্থ— অটল বিচারক। তিনি যিনি সকল বিষয়, বিচার ও সিদ্ধান্তে সঠিকতা ও ন্যায় নিশ্চিত করেন। তাঁর সিদ্ধান্ত একমাত্র শুদ্ধ এবং অটল, যা কখনো ভুল হতে পারে না।
৩০. আল-আ'দল (العدل) অর্থ— পরিপূর্ণ-ন্যায়বিচারক। তিনি যিনি সঠিক ও পরিপূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন, সকল কাজের মধ্যে সুষমতা এবং নিষ্পক্ষতা বজায় রাখেন, এবং কোনো ধরনের অন্যায় বা অবিচার অনুমোদন করেন না।
৩১. আল-লাতীফ (اللطيف) অর্থ— সকল গোপন বিষয়ে অবগত। তিনি যিনি সকল গোপন বিষয় ও ঘটনা জানেন, যেগুলি মানুষের দৃষ্টির বাইরে থাকে, এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া নিখুঁত ও সূক্ষ্মভাবে প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি প্রকাশ পায়।
৩২. আল-খ'বীর (الخبير) অর্থ— সকল ব্যাপারে জ্ঞাত। তিনি যিনি সমস্ত ঘটনা, অবস্থা এবং সৃষ্টির প্রতিটি দিক সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত, এবং তাঁর জ্ঞান কোনো কিছুই বাদ দেয় না।
৩৩. আল-হা'লীম (الحليم) অর্থ— অত্যন্ত ধৈর্যশীল। তিনি যিনি প্রতিটি পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করেন, তাঁর বান্দাদের ভুল বা অপরাধে ধৈর্য দেখান এবং অস্থিরতা বা ক্রোধ প্রদর্শন করেন না। তাঁর দয়া ও সহানুভূতির মাধ্যমে তিনি বান্দাদের শাস্তি থেকে রক্ষা করেন।
৩৪. আল-আ'জীম (العظيم) অর্থ— সর্বোচ্চ-মর্যাদাশীল। তিনি যিনি অসীম গৌরব, মর্যাদা ও মহিমা সম্পন্ন, সব কিছুর উপরে তাঁর অবস্থান এবং ক্ষমতা অসীম। তাঁর মর্যাদা কোনো কিছুই ছাপিয়ে যায় না।
৩৫. আল-গফুর (الغفور) অর্থ— পরম ক্ষমাশীল। তিনি যিনি সকল পাপ ও ভুল ক্ষমা করেন, তাঁর ক্ষমা অসীম এবং কোন সৃষ্টির পাপের জন্য তিনি দণ্ড দেন না, যদি বান্দা তাওবা করে। তাঁর দয়া ও ক্ষমা সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়।
৩৬. আশ্-শাকুর (الشكور) অর্থ— গুনগ্রাহী। তিনি যিনি তাঁর বান্দার ছোটো বড় সকল ভালো কাজের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের সৎ কাজের পুরস্কৃত করেন, যদিও তা ক্ষুদ্রই হোক না কেন।
৩৭. আল-আ'লিইউ (العلي) অর্থ— উচ্চ-মর্যাদাশীল। তিনি যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানে অধিকারী, তাঁর অবস্থান এবং ক্ষমতা সকল কিছু থেকে উঁচু, তিনি সকল সৃষ্টির উপরে আছেন এবং তাঁর মহিমা, গৌরব এবং সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি সীমাহীন।
৩৮. আল-কাবিইর (الكبير) অর্থ— সুমহান। তিনি যিনি অসীম মহিমা ও সম্মানে অধিকারী, তাঁর গৌরব, শক্তি ও মর্যাদা অগণিত। তিনি সর্বকিছুর উর্ধ্বে, সমস্ত সৃষ্টির উপরে এবং তাঁর মহানতা, জ্ঞান ও শক্তি সকল সীমা অতিক্রম করে।
৩৯. আল-হা'ফীজ (الحفيظ) অর্থ— সংরক্ষণকারী। তিনি যিনি সকল সৃষ্টির সবকিছু সংরক্ষণ করেন, তাদের কাজ, কথা, এবং কর্মকাণ্ডের প্রতি অবিচল দৃষ্টি রাখেন, এবং কোনো কিছুই তাঁর সৃষ্টির চোখ থেকে অজানা থাকে না।
৪০. আল-মুক্বীত (المقيت) অর্থ— সকলের জীবনোপকরণ দানকারী। তিনি যিনি সকল সৃষ্টির জন্য তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও জীবিকা প্রদান করেন, তাঁর দয়া ও প্রজ্ঞা দ্বারা সকলের জীবন রক্ষিত থাকে।
৪১. আল-হাসীব (الحسيب) অর্থ— হিসাব-গ্রহণকারী। তিনি যিনি সকল কাজের হিসাব রাখেন এবং প্রতিটি কাজের জন্য প্রতিফল প্রদান করেন। তার কাছে কোনো কাজ অদৃশ্য বা অবহেলিত থাকে না, তিনি সঠিকভাবে হিসাব গ্রহণ করেন।
৪২. আল-জালীল (الجليل) অর্থ— পরম মর্যাদার অধিকারী। তিনি যিনি অসীম মর্যাদা, গৌরব ও সম্মানে অধিকারী, এবং তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব সকল কিছু থেকে উচ্চতর। তাঁর সম্মান ও মর্যাদা অপরিসীম এবং সকল সৃষ্টির কাছে তিনি শ্রেষ্ঠ।
৪৩. আল-কারীম (الكريم) অর্থ— সুমহান দাতা। তিনি যিনি অত্যন্ত দানশীল, অশেষ দয়া এবং অপ্রতিরোধ্য করুণার অধিকারী। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি বিপুল দান ও অনুগ্রহ প্রদানে সমৃদ্ধ, এবং তাঁর দানের সীমা নাই।
৪৪. আর-রক্বীব (الرقيب) অর্থ— তত্ত্বাবধায়ক। তিনি যিনি সর্বত্র উপস্থিত থেকে সৃষ্টির কার্যকলাপ, আমল এবং আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর নজর থেকে কিছুই অদৃশ্য থাকে না, এবং তিনি প্রতিটি মানুষের কার্যকলাপের প্রতি লক্ষ্য রাখেন।
৪৫. আল-মুজীব (المجيب) অর্থ— কবুলকারী। তিনি যিনি বান্দাদের দোয়া ও প্রার্থনা কবুল করেন, তাদের বিপদ ও সমস্যায় সাহায্য করেন এবং যখন কেউ তাঁকে ডাকে, তিনি সাড়া দেন। তাঁর দয়া ও সাহায্য অসীম।
৪৬. আল-ওয়াসি (الواسع) অর্থ— সর্ব-ব্যাপী। তিনি যিনি তাঁর দয়া, ক্ষমা, জ্ঞান এবং রহমত দ্বারা সবকিছু একত্রিত করেন এবং তাঁর উপস্থিতি, দয়া ও রহমত সবকিছুর মধ্যে বিস্তৃত। তাঁর বিপুল পরিসর সবার জন্য উন্মুক্ত।
৪৭. আল-হাকীম (الحكيم) অর্থ— পরম-প্রজ্ঞাময়। তিনি যিনি সর্বাধিক জ্ঞানী এবং তাঁর সিদ্ধান্ত ও কর্মে অশেষ প্রজ্ঞা প্রদর্শন করেন। তাঁর সকল কর্ম ও আইন সঠিক এবং সুবিবেচিত, যা সৃষ্টির জন্য সর্বোত্তম।
৪৮. আল-ওয়াদুদ (الودود) অর্থ— বান্দাদের প্রতি সদয়। তিনি যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অগণিত প্রেম ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। আল্লাহ তাঁর অশেষ দয়া, ভালোবাসা এবং সহানুভূতির মাধ্যমে বান্দাদের সঙ্গীত ও শান্তি প্রদান করেন।
৪৯. আল-মাজীদ (المجيد) অর্থ— সকল মর্যাদার অধিকারী। তিনি যিনি অসীম গৌরব, সম্মান এবং মহিমায় পূর্ণ, এবং তাঁর মর্যাদা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তার মহানত্ব ও শক্তির মাধ্যমে সকল সৃষ্টির উপরে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
৫০. আল-বাইছ (الباعث) অর্থ— পুনুরুজ্জীবিতকারী। তিনি যিনি মৃতদের জীবিত করেন এবং সকলের পুনরুত্থান ঘটান। আল্লাহ তাঁর অসীম ক্ষমতা এবং ইচ্ছার মাধ্যমে মৃতদের প্রাণদান করেন এবং তাদের জীবনের নতুন শুরু করেন।
৫১. আশ্-শাহীদ (الشهيد) অর্থ— সর্বজ্ঞ স্বাক্ষী। তিনি যিনি সবকিছু দেখেন এবং তাঁর অশেষ জ্ঞান ও সাক্ষ্য দ্বারা সৃষ্টির সকল কর্মকাণ্ডের পূর্ণ অবগত। আল্লাহ সবকিছুর উপর নজর রাখেন এবং তাঁর সাক্ষ্য সঠিক এবং নির্ভুল।
৫২. আল-হা'ক্ব (الحق) অর্থ— পরম সত্য। তিনি যিনি একমাত্র সত্য, এবং সবকিছুর ভিত্তি ও মাপকাঠি। আল্লাহ তার সত্যের মধ্যে কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তন নেই, এবং তাঁর আইন ও প্রতিশ্রুতি সঠিক এবং অবিচলিত।
৫৩. আল-ওয়াকিল (الوكيل) অর্থ— পরম নির্ভরযোগ্য কর্ম-সম্পাদনকারী। তিনি যিনি সকল বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী এবং তাঁর উপর বিশ্বাস রেখে কর্মসমূহ পরিচালনা করা হয়। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির সবকিছু পরিচালনা করেন, এবং তাঁর উপর ভরসা রাখা উচিত, কারণ তিনি সবকিছু সঠিকভাবে এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করেন।
৫৪. আল-ক্বউইউ (القوي) অর্থ— পরম শক্তির অধিকারী। তিনি যিনি অসীম শক্তি ও বলের অধিকারী, এবং তাঁর শক্তি কোনো সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়। আল্লাহ সবকিছু এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাঁর শক্তির কাছে কোনো কিছুই পরাজিত হতে পারে না।
৫৫. আল-মাতীন (المتين) অর্থ— সুদৃঢ়। তিনি যিনি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অটুট, তাঁর সিদ্ধান্ত ও আইন কখনো পরিবর্তিত হয় না। আল্লাহর দৃঢ়তা এবং স্থিরতা সবকিছুর উপরে, এবং তাঁর সমস্ত কার্যক্রম নির্ভুল ও স্থায়ী।
৫৬. আল-ওয়ালিইউ (الولي) অর্থ— অভিভাবক ও সাহায্যকারী। তিনি যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি সদয়, তাদের রক্ষা করেন এবং সব পরিস্থিতিতে সাহায্য করেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য একমাত্র প্রকৃত অভিভাবক এবং সাহায্যকারী, যিনি তাদের সব দুশ্চিন্তা এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
৫৭. আল-হা'মীদ (الحميد) অর্থ— সকল প্রশংসার অধিকারী। তিনি যিনি সর্বাধিক প্রশংসনীয় এবং সমস্ত মহিমা তাঁরই জন্য। আল্লাহ তাঁর বিশালত্ব, দয়া এবং মহত্বের জন্য সর্বত্র প্রশংসিত। তাঁর সকল কাজ ও গুণ মহিমান্বিত এবং প্রশংসার যোগ্য।
৫৮. আল-মুহছী (المحصي) অর্থ— সকল সৃষ্টির ব্যপারে অবগত। তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা, গুণাবলী এবং প্রতিটি ঘটনা জানেন। আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞানে সবকিছু হিসাব করেন এবং তাঁর কাছে কিছুই গোপন থাকে না।
৫৯. আল-মুব্দি (المبدئ) অর্থ— প্রথমবার-সৃষ্টিকর্তা। তিনি যিনি সৃষ্টির শুরু করেছেন, সবকিছু প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাঁর অশেষ ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টির শুরু করেন এবং যা কিছু বিদ্যমান তা তাঁর ইচ্ছার ফল।
৬০. আল-মুঈ'দ (المعيد) অর্থ— পুনরায়-সৃষ্টিকর্তা। তিনি যিনি সৃষ্টির পুনরুদ্ধার ও পুনর্নিমাণ করেন। আল্লাহ সৃষ্টির অবসান ঘটানোর পর, আবার সৃষ্টিকে পুনরায় জীবিত করেন এবং প্রতিটি সৃষ্টির পুনঃসংস্কৃতি এবং পুনর্স্থাপন তাঁর হাতে।
৬১. আল-মুহ'য়ী (المحيي) অর্থ— জীবন-দানকারী। তিনি যিনি সৃষ্টির জীবনে প্রাণ দান করেন এবং যিনি মৃত্যুর পর জীবন প্রদান করতে সক্ষম। আল্লাহ সব জীবিত প্রাণীর জীবন ধারণ করেন এবং তাঁর ইচ্ছায় সৃষ্টির জীবন শুরু ও শেষ হয়।
৬২. আল-মুমীত (المميت) অর্থ— মৃত্যু-দানকারী। তিনি যিনি সকল সৃষ্টির মৃত্যু ঘটান। আল্লাহ যাঁর ইচ্ছায় সকল প্রাণী মৃত্যু গ্রহণ করে এবং তাঁরই সিদ্ধান্তে সৃষ্টির জীবন শেষ হয়।
৬৩. আল-হাইয়্যু (الحي) অর্থ— চিরঞ্জীব। তিনি যিনি চিরকাল জীবিত, মৃত্যুহীন। আল্লাহ সর্বদা জীবিত, তাঁর অস্তিত্ব অমর এবং তাঁর সত্তা কখনো শেষ হয় না। তাঁর জীবন্ততা সকল জীবের উপরে, এবং তিনি সকল সৃষ্টির প্রাণদাতা।
৬৪. আল-ক্বাইয়্যুম (القيوم) অর্থ— সমস্তকিছুর ধারক ও সংরক্ষণকারী। তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টি ও সৃষ্টির সব কার্যক্রম ধারন করেন এবং সংরক্ষণ করেন। আল্লাহ তাঁর অসীম শক্তি দিয়ে সমস্ত বিশ্বের চলমানতা রক্ষা করেন, এবং তাঁর ছাড়া কিছুই টিকে থাকতে পারে না।
৬৫. আল-ওয়াজিদ (الواجد) অর্থ— অফুরন্ত ভান্ডারের অধিকারী। তিনি যিনি সমস্ত কিছু পান এবং যাঁর কাছে কোন কিছুর অভাব নেই। আল্লাহর দানে এবং মেহেরবানিতে কোনো কিছুই শেষ হয় না, তাঁর ভান্ডারে কখনও অভাব হয় না, বরং অফুরন্ত দানে তিনি সৃষ্টির প্রয়োজন মেটান।
৬৬. আল-মাজিদ (الماجد) অর্থ— শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তিনি যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আল্লাহর সমস্ত গুণাবলি এবং শক্তি অসীম, এবং তিনি সমস্ত সৃষ্টি থেকে শ্রেষ্ঠ। তাঁর মহিমা ও মর্যাদা অতুলনীয়।
৬৭. আল-ওয়াহি'দ (الواحد) অর্থ— এক ও অদ্বিতীয়। তিনি যিনি একমাত্র, যার কোনও সঙ্গী বা সমকক্ষ নেই। আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর সমকক্ষ বা অংশীদার কখনো ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তিনি সকল সৃষ্টি থেকে পৃথক, এবং তাঁর সত্তা অমর ও একক।
৬৮. আল আহাদ (الاحد) অর্থ— এক। তিনি যিনি একমাত্র, যাঁর কোনো সঙ্গী বা সমকক্ষ নেই। আল্লাহ এক, এবং তাঁর অসীম সত্তা অন্য কিছু থেকে পৃথক ও একক। আল্লাহর ঐক্য ও একত্ব সমস্ত সৃষ্টির বাইরে, এবং তাঁর কোনো বিভাজন বা অংশ নেই।
৬৯. আছ্-ছমাদ (الصمد) অর্থ— অমুখাপেক্ষী। তিনি যিনি সকলের প্রয়োজন পূরণ করেন, কিন্তু তিনি নিজে কারো প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। আল্লাহ সকল সৃষ্টির উপকারে আসেন, কিন্তু তাঁর নিজস্ব কোন অভাব বা অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন নেই। তিনি সর্বদা সম্পূর্ণ এবং একা, কোন কিছু বা কারো উপর নির্ভরশীল নন।
৭০. আল-ক্বদির (القادر) অর্থ— সর্বশক্তিমান। তিনি যিনি সকল কিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। আল্লাহর ইচ্ছা ও শক্তি অসীম এবং তিনি যেকোনো কিছু করতে সক্ষম। তাঁর শক্তি কোনও সীমানা বা সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ নয়; তিনি যা চান তা ঘটাতে সক্ষম।
৭১. আল-মুক্ব্তাদির (المقتدر) অর্থ— নিরঙ্কুশ-সিদ্বান্তের-অধিকারী। তিনি যিনি সকল কাজের উপযুক্ত এবং নির্দ্বিধায় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। আল্লাহর ইচ্ছা ও শক্তি অসীম, এবং তাঁর সিদ্ধান্তে কোন আপত্তি বা পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি সকল পরিস্থিতির উপর পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন এবং সবকিছুতে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
৭২. আল-মুক্বদ্দিম (المقدم) অর্থ— অগ্রসারক। তিনি যিনি যেকোনো কিছু বা ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে, পূর্বে স্থাপন করেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে এগিয়ে দেন, এবং যাকে ইচ্ছা তাকে পিছিয়ে রাখেন। তাঁর ইচ্ছায় এবং সিদ্ধান্তে সকল কিছু ঘটে, এবং তিনি সমস্ত সৃষ্টি ও ঘটনার অগ্রসারক।
৭৩. আল-মুয়াক্খির (المؤخر) অর্থ— অবকাশ দানকারী। তিনি যিনি কিছু সময়ের জন্য পেছনে ঠেলে দেন বা স্থগিত করেন। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির জন্য পরিমিত সময় দেন, এবং যেকোনো কিছু অগ্রসর হওয়ার জন্য তাঁর ইচ্ছা ও পরিকল্পনা অনুসরণ হয়। যখন তিনি চান, তখন কোনো কাজ বা ঘটনা বিলম্বিত বা স্থগিত হতে পারে।
৭৪. আল-আউয়াল (الأول) অর্থ— অনাদি। তিনি চিরন্তন, সৃষ্টির শুরু থেকেই বিদ্যমান এবং তাঁর কোনো শুরু বা উৎপত্তি নেই। আল্লাহ সময় ও সীমার ঊর্ধ্বে, তাই তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্রষ্টা। কুরআনে বলা হয়েছে— “তিনিই প্রথম ও শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন।”
৭৫. আল-আখির (الأخر) অর্থ— অনন্ত, সর্বশেষ। তিনি যিনি সকল কিছুর অন্তিম। আল্লাহ চিরস্থায়ী, তাঁর পরে কেউ নেই। যখন সবকিছু শেষ হয়ে যাবে, তখনও তিনিই অবশিষ্ট থাকবেন। তাঁর অস্তিত্ব অনন্ত, তিনি সময় ও সীমার ঊর্ধ্বে এবং চিরকাল বিদ্যমান।
৭৬. আজ-জ'হির (الظاهر) অর্থ— সম্পূর্নরূপে-প্রকাশিত। তিনি যিনি সকল কিছুর ওপর স্পষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। আল্লাহর অস্তিত্ব ও শক্তির নিদর্শন সৃষ্টিজগতে প্রকাশিত, এবং তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সবকিছু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। তিনি সর্বোচ্চ ও সর্বশক্তিমান, যাঁর উপস্থিতি সর্বত্র বিদ্যমান।
৭৭. আল-বাত্বিন (الباطن) অর্থ— দৃষ্টি হতে অদৃশ্য। তিনি যিনি সকল কিছুর অন্তরালে থাকেন এবং যাঁর প্রকৃত সত্তা মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে। আল্লাহ অদৃশ্য হলেও তাঁর জ্ঞান, শক্তি ও উপস্থিতি সবকিছু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান এবং সকল গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।
৭৮. আল-ওয়ালি (الوالي) অর্থ— সমস্ত-কিছুর-অভিভাবক। তিনি যিনি সৃষ্টির সমস্ত কিছু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন। আল্লাহ নিজেই সমস্ত সৃষ্টির দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সবকিছুকে পরিচালনা করেন। তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছার বাইরে কিছু ঘটে না, তিনি সৃষ্টির প্রতিটি অংশের অভিভাবক এবং রক্ষক।
৭৯. আল-মুতাআ'লি (المتعالي) অর্থ— সৃষ্টির গুনাবলীর উর্দ্ধে। তিনি যিনি সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা, দোষ ও দুর্বলতার ঊর্ধ্বে এবং তাঁর অস্তিত্ব, গুণ ও পরিপূর্ণতা সবকিছুর চেয়ে মহান। আল্লাহ নিজেই সর্বোচ্চ, তাঁর কোনো সঙ্গতি বা তুলনা নেই, এবং তিনি সকল সৃষ্টির থেকে অনেক উঁচু ও শ্রেষ্ঠ।
৮০. আল-বার্ (البر) অর্থ— পরম-উপকারী। তিনি যিনি সকল সৃষ্টির প্রতি মহামানবিক সদ্ভাব প্রদর্শন করেন এবং তাঁদের কল্যাণের জন্য কাজ করেন। আল্লাহ নিজেই পরম দয়ালু ও সৎ, তিনি সবার জন্য অনন্ত কল্যাণ এবং রহমতের উৎস, এবং তাঁর করুণায় সৃষ্টির সকল দুঃখ-কষ্ট দূরীভূত হয়।
৮১. আত্-তাওয়াব (التواب) অর্থ— তাওবার তাওফিক দানকারী এবং কবুলকারী। তিনি যিনি তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং তাদেরকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সাহায্য করেন। আল্লাহ নিজেই সর্বশ্রেষ্ঠ তাওয়াব, তিনি বিনা শর্তে তাওবা গ্রহণ করেন এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমার মাধ্যমে বান্দাদের পাপ মোচন করেন।
৮২. আল-মুনতাক্বিম (المنتقم) অর্থ— প্রতিশোধ-গ্রহণকারী। তিনি যিনি দুষ্কর্মের প্রতিফল হিসেবে দোষীদের শাস্তি দেন। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছামতো সৃষ্টির মধ্যে শাস্তি প্রদান করেন, তবে তাঁর শাস্তি ন্যায় ও সত্যের উপর ভিত্তি করে। তিনি সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে এবং তাঁর জ্ঞানের অধীনে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন, যা শুধুমাত্র তাঁর সঠিক সিদ্ধান্ত ও বিচার অনুযায়ী হয়ে থাকে।
৮৩. আল-আ'ফঊ (العفو) অর্থ— পরম-উদার। তিনি যিনি বান্দাদের ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে দেন এবং তাঁদের পাপ মাফ করেন। আল্লাহ তাঁর অপরিমিত দয়া ও উদারতায় তাওবা করা বান্দাদের পাপ ক্ষমা করেন এবং তাঁদের প্রতি তাঁর দয়া প্রদর্শন করেন। তাঁর উদারতা অসীম, এবং তিনি বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও দয়া ময়।
৮৪. আর-রউফ (الرؤوف) অর্থ— পরম-স্নেহশীল। তিনি যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহশীল। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি গভীর স্নেহ ও সহানুভূতি প্রদর্শন করেন এবং তাদের কল্যাণের জন্য সর্বদা সহায়তা করেন। তাঁর দয়া ও স্নেহ অসীম, তিনি সকল দুঃখ-কষ্টে সৃষ্টির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহায্য করেন।
৮৫. মালিকুল-মুলক (مالك الملك) অর্থ— সমগ্র জগতের বাদশাহ্। তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টির রাজা এবং প্রতিটি বস্তু ও জগতের মালিক। আল্লাহর রাজত্ব অসীম, তাঁর শাসন ও ক্ষমতা সমস্ত সৃষ্টির ওপর রয়েছে এবং তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই ঘটে না। তিনি একমাত্র সৃষ্টির মালিক, যার রাজত্ব চিরকাল থাকবে।
৮৬. যুল-জালালি-ওয়াল-ইকরাম (ذو الجلال والإكرام) অর্থ— মহিমান্বিত ও দয়াবান সত্তা। তিনি যিনি মহান গৌরব এবং সম্মানের অধিকারী, এবং তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ অসীম। আল্লাহ একদিকে তাঁর মহিমা, শক্তি ও গৌরবের জন্য শ্রেষ্ঠ, অপরদিকে তাঁর উদারতা, দয়া এবং দয়া প্রয়োগের মাধ্যমে বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
৮৭. আল-মুক্ব্সিত (المقسط) অর্থ— হকদারের হক-আদায়কারী। তিনি যিনি সঠিক বিচার ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সকলের অধিকার পূর্ণরূপে প্রদান করেন। আল্লাহ সকল সৃষ্টির প্রতি সঠিকভাবে হক এবং অধিকার ফিরিয়ে দেন, তাঁর বিচার অসীম ন্যায়বোধ এবং সঠিকতা দ্বারা পরিচালিত।
৮৮. আল-জামিই (الجامع) অর্থ— একত্রকারী, সমবেতকারী। তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টিকে একত্র করেন এবং তাঁর ইচ্ছামতো সমস্ত কিছু একত্রিত করে রাখেন। আল্লাহ সমস্ত কিছু তার সঠিক স্থানে, সময়ে এবং পরিস্থিতিতে একত্র করেন, এবং তিনি সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখেন।
৮৯. আল-গণিই (الغني) অর্থ— অমুখাপেক্ষী ধনী। তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টির কাছে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং কোনকিছুর উপর নির্ভরশীল নন। আল্লাহর অসীম সম্পদ, তাঁর ধন-সম্পদ, ক্ষমতা এবং প্রজ্ঞা অনির্বচনীয়; তিনি সবার থেকে ধনী, এবং তাঁর সম্পদ কখনও কমে না।
৯০. আল-মুগণিই (المغني) অর্থ— পরম-অভাবমোচনকারী। তিনি যিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার মাধ্যমে সৃষ্টির অভাব দূর করেন এবং তাদেরকে পরিপূর্ণতা দান করেন। আল্লাহ সকলের প্রয়োজন পূর্ণ করেন, যারা তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে, তিনি তাদেরকে নিজের অশেষ দয়া ও মহিমা দিয়ে পরিপূর্ণ করে তোলেন।
৯১. আল-মানিই (المانع) অর্থ— অকল্যাণরোধক। তিনি যিনি সকল ধরনের অকল্যাণ, বিপদ ও ক্ষতি থেকে সৃষ্টিকে রক্ষা করেন। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সকল বিপদ, বিপত্তি ও খারাপ ঘটনার প্রতিরোধ করেন এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমতার মাধ্যমে সৃষ্টির কল্যাণ নিশ্চিত করেন।
৯২. আয্-যর (الضار) অর্থ— ক্ষতিসাধনকারী। তিনি যিনি সৃষ্টির জন্য বিপদ ও ক্ষতি এনে দেন, তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু কিছু সময় মানুষকে পরীক্ষার জন্য বা তাঁর শাস্তির অংশ হিসেবে কষ্ট ও ক্ষতির সম্মুখীন করেন। তবে আল্লাহর ক্ষতি এবং শাস্তি ন্যায়ভিত্তিক এবং শুধুমাত্র তাঁর জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটে।
৯৩. আন্-নাফিই (النافع) অর্থ— কল্যাণকারী। তিনি যিনি সৃষ্টির জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল আনেন। আল্লাহ সকল প্রকার উপকারিতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রদান করেন, এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার মাধ্যমে বান্দাদের জীবনে কল্যাণ আসে। তিনি সঠিক পথ, সাহায্য ও আশীর্বাদ প্রদানকারী।
৯৪. আন্-নূর (النور) অর্থ— পরম-আলো। তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টিকে আলোকিত করেন এবং তাঁর জ্ঞান ও হেদায়াত দ্বারা পৃথিবীকে উদ্ভাসিত করেন। আল্লাহই সকল বিদ্যমানতার আসল আলো, তাঁর আলো মানে সত্য, বিশ্বাস এবং সঠিক পথের প্রতি নির্দেশনা। তাঁর সান্নিধ্য ছাড়া পৃথিবী অন্ধকারে ডুবে থাকত।
৯৫. আল-হাদী (الهادي) অর্থ— পথ-প্রদর্শক। তিনি যিনি সৃষ্টিকে সঠিক পথ দেখান এবং তাদেরকে সত্য ও ন্যায়ের দিকে পরিচালিত করেন। আল্লাহ তাঁর রহমত এবং ইচ্ছা দ্বারা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, এবং তাঁর নির্দেশনার মাধ্যমে বান্দাদের জীবনকে আলোকিত করেন।
৯৬. আল-বাদীই (البديع) অর্থ— অতুলনীয়। তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টি শুরু করেন, এমনভাবে যা পূর্বে কেউ দেখেনি বা শোনেনি। আল্লাহ সৃষ্টির প্রতিটি অংশে এমন এক অনন্য সৌন্দর্য এবং সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেন, যা তাঁর তুলনা বা সাদৃশ্য সম্ভব নয়। তাঁর সৃষ্টি চিরকাল নতুন এবং একেবারে অতুলনীয়।
৯৭. আল-বাক্বী (الباقي) অর্থ— চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর। তিনি যিনি সৃষ্টির পরেও চিরকাল অবিকল ও অবিনশ্বর থাকেন। আল্লাহর অস্তিত্ব ও রাজত্ব চিরন্তন, তাঁর কোনো শেষ নেই এবং তিনি সবকিছুর পরেও অবশিষ্ট থাকেন। তাঁর সত্তা, গুণ এবং ক্ষমতা কোন সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় না।
৯৮. আল-ওয়ারিস (الوارث) অর্থ— উত্তরাধিকারী। তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টির পর, সব কিছু তাঁর কাছে ফিরে আসে। আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টির প্রকৃত মালিক এবং সবকিছু তাঁর মালিকানায় ফিরে যায়। পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সব কিছু একদিন আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে, এবং তিনি চিরকাল সেইসবের মালিক।
৯৯. আর-রাশীদ (الرشيد) অর্থ— সঠিক পথ-প্রদর্শক। তিনি যিনি সঠিক পথে পরিচালনা করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বান্দাকে ন্যায় ও সত্যের দিকে পরিচালিত করেন। আল্লাহ নিজেই একমাত্র সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক, যাঁর হেদায়াত এবং নির্দেশনায় বান্দারা সঠিক পথ অনুসরণ করতে সক্ষম হন।
শেষ কথা
আল্লাহর নাম স্মরণ করার মাধ্যমে আমরা তাঁর অনুগ্রহ লাভ করি এবং আরও ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পারি। এই ব্লগ পোস্টে আল্লাহর ৯৯ নামের আলোচনা আপনাদের জীবনে আল্লাহর প্রেম এবং দয়ার অনুভূতি তৈরি করবে, আশা করি।
আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর এই পবিত্র নামগুলো মুখস্থ করি, নামের অর্থ গভীরভাবে উপলব্ধি করি এবং আমাদের জীবনে তাদের শিক্ষা বাস্তবায়ন করি। যাহার মাধ্যমে আমরা ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভ করতে পারি।